মাউন্ট এভারেস্ট

মাউন্ট এভারেস্ট ভ্রমণ গাইড | উচ্চতা, অবস্থান ও ইতিহাস

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের কথা উঠলে আমাদের সর্বপ্রথম মাথায় আসে মাউন্ট এভারেস্টের কথা। চোখ ধাঁধানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রকৃতির বিস্ময়কর সৃষ্টি এটি। বরফের চাদর গায়ে জড়িয়ে নেপাল এবং চীনের সীমান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাউন্ট এভারেস্ট। আবিষ্কারের পর থেকে মাউন্ট এভারেস্ট আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বহু পর্বতআরোহী এটি জয় করার নেশায় ছুটেছে। মাউন্ট এভারেস্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করছে। বর্তমান সময়ে পর্যটকদের জন্য এভারেস্ট বেস ক্যাম্প পর্যন্ত ট্রেকিং করা এবং হেলিকপ্টার ও প্লেনের মাধ্যমে এভারেস্ট দেখা বব্যবস্থা রয়েছে। এই নিবন্ধে মাউন্ট এভারেস্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, যাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মাউন্ট এভারেস্ট

মাউন্ট এভারেস্ট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এভারেস্টের অবস্থান ও আবিষ্কার

মাউন্ট এভারেস্ট নেপাল এবং চীনের তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত। এভারেস্টের শৃঙ্গ নেপালের উত্তরে এবং তিব্বতের দক্ষিণে অবস্থিত।  বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী মাউন্ট এভারেস্ট প্রায় ৬০০ মিলিয়ন বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল। ১৮০২ সাল থেকে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা পর্বত শৃঙ্গের উচ্চতা মাপার শুরু করেন। কিন্তু নেপালে প্রবেশের অধিকার না থাকায় তারা দূর থেকে এটি পরিমাপের চেষ্টা করেন। সে সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা কে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ হিসাবে ধরা হতো। পর্বত শৃঙ্খের উচ্চতা মাপায় সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জেমস নিকোলাস। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হওয়ার কারণে তার কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ১৮৫২ সালে বাঙালি গণিতবিদ রাধানাথ শিকদার এই কাজের দায়িত্ব নেন। সমস্ত সিদ্ধান্ত ও পর্যবেক্ষণের পর ১৮৫৬ সালে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৩৯. ২ মিটার( ২৯,০০২)

 

মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা

রাধানাথ শিকদার ১৮৫৬ সালে এই পর্বতের উচ্চতা পরিমাপ করেন ৮,৮৩৯. ২ মিটার। পরবর্তী সময়ে এভারেস্টের উচ্চতা নিয়ে জ্ঞানীদের মধ্যে আগ্রহ শেষ ছিল না। এরপরও বারবার এটি পরিমাপ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি তারপর মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়। ২০০২ সালে চীন ও নেপাল জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা নির্ণয় করেন ৮৮৪৮. ৮৬ মিটার (২৯,০৩১.৭ ফুট)। এটিই মাউন্ট এভারেস্টের নির্ভুল পরিমাপ। ভূতাত্বিকদের মতে মাউন্ট এইভারেস্টের উচ্চতা বছরে ৪ মিলিমিটার করে বৃদ্ধি পায়।

 

মাউন্ট এভারেস্টের নামকরণ

তিব্বতে মাউন্ট এভারেস্টের নাম চোমোলাংমা এবং নেপালে এভারেস্টের নাম সাগরমাথা। চোমোলাংমা তিব্বতীয়দের কাছে পবিত্র নাম। এভারেস্টের নাম করুন জর্জ এভারেস্টের নাম অনুসারে রাখা হয়। যদিও তিনি একজন সার্ভেয়ার আর ও ভূগোলবিদ ছিলেন তবুও মাউন্ট এভারেস্ট আবিষ্কারে তার কোন অবদান ছিল না। কিন্তু নেপালে এটি সাগরমাথা এবং তিব্বতে চোমোলাংমা নামে পরিচিত। বহু পর্বতে সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে হিমালয় পর্বতমালা। মাউন্ট এভারেস্ট হলে এর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু।

 

মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ

  • ১৯২১ সালের জর্জ ম্যালোরি মাউন্ট এভারেস্টের ৭০০৭ মিটার আরোহণ করেন।
  • জর্জ ফিনচ সর্বপ্রথম অক্সিজেন ব্যবহার করে পর্বত আহরণ করেন।
  • এভারেস্টের সর্বপ্রথম আহরণ করেন স্যার এডমন্ড হিলারি ১৮৫৩ সালে।
  • এখনো পর্যন্ত ৯০০০ বারেরও বেশি মাউন্ট এভারেস্টে ওঠা হয়েছে।
  • অস্ট্রিয়ার পিঠার হেবলার ও এবং ইতালির রেইনহোল্ড মেসনার প্রথম অক্সিজেন ছাড়া ১৯৭৮  সালে এভারেস্ট জয় করেন।
  • প্রথম নারী হিসেবে ১৯৭৫ সালে এভারেস্ট জয় করেন জাপানের জুনকো তাবেই
  • ১৮৯৮ সালে প্রথম প্রতিবন্ধী হিসেবে এভারেস্ট এর জয় করেন যুক্তরাষ্ট্রের টম হুইটেকার
  • বেশি বার এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছেন নেপালের আপা শেরপা। তিনি মোট ২১ বার এভারে চূড়ায় পা রেখেছেন।
  • শেরপা না হয়েও সবচেয়ে বেশিবার মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন আমেরিকার ডেভ হান
  • সবচেয়ে বেশি বয়সে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন জাপানের ইউইচিরো মিউরায়( ২০১৩)
  • মাউন্ট এভারেস্টে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে ২০১০ সালে ১৩ বছর বয়সী আমেরিকান কিশোর জর্ডান রোমেরো আরোহণ করেন।
  • সুব্রত দাস প্রথম বাঙালি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন (২০০৪)
  • শিপ্রা প্রমজুমদার প্রথম বাঙালি নারী হিসেবে এভারেস্ট চূড়ায় আহরণ করেন (২০০৪)
See also  আগ্রার তাজমহল ভ্রমণ গাইড: ইতিহাস, যাতায়াত, খরচ ও ভ্রমণ টিপস

 

মাউন্ট এভারেস্টে বাংলাদেশে

  • বাংলাদেশী হিসেবে সর্বপ্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম (২০১০)।
  • দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসাবে এভারেস্ট জয় করেন এম এ মুহিত (২০১১)
  • প্রথম বাংলাদেশে নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার (২০১২)
  • কম বয়সী বাংলাদেশি এবং দ্বিতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন ওয়াসাফিয়া নাজরীন ( ২০১৩)
  • এখনো পর্যন্ত আটজন বাংলাদেশী এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছেন।

 

মাউন্ট এভারেস্টে যাওয়ার উপায়

মাউন্ট এভারেস্টে সাধারণত দুই উদ্দেশ্যে যাওয়া যায়। পর্বত আরোহী হিসেবে এবং ট্রাভেলার হিসাবে। পর্বত আরোহী হিসেবে যেতে গেলে তার উপায় এক রকম, আবার ট্রাভেলার হিসেবে যেতে গেলেও তার উপায় আরেক রকম। কোন উদ্দেশ্যে এভারেস্টে যাবেন সেটি আগে থেকেই নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে মাউন্ট এভারেস্টে যাওয়ার দুইটি উপায় তুলে ধরা হলো।

ট্রাভেলার হিসেবে এভারেস্টে যাওয়ার উপায়

প্রতিনিয়ত পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পর্যটক মাউন্ট এভারেস্টের সৌন্দর্য দেখার জন্য ছুটে আসছে। পর্যটক হিসাবে এভারেস্টে গিয়ে নিজের চোখ দিয়ে এভারেস্টের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এক্ষেত্রে কষ্ট করে পাহাড়ে ওঠার দরকার পড়ে না। এক্ষেত্রে কোন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। এভারেস্ট মাউন্টেন ফ্লাইটের মাধ্যমে মাউন্ট এভারেস্টের খুব কাছ দিয়ে ঘুরে আসা যায়। এছাড়া হেলিকপ্টারি করে এভারেস্ট বেস্ট ঘুরে আসা যায়। যেখান থেকে এভারেস্ট খুব পরিষ্কার দেখা যায়।

ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডু (নেপাল) যাওয়া উপায়

ঢাকা থেকে খুব সহজেই বছরের যে কোন সময় কাঠমুন্ডুতে যাওয়া যায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও হিমালয়ের এয়ারলাইন্স সরাসরি ঢাকা টু কাঠমান্ডুয়া ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। বাংলাদেশ সার্ক অধিভুক্ত দেশ হওয়ায় নেপালে খুব সহজেই অন অ্যারাইভাল ভিসা পাওয়া যায়। বছরের প্রথমে সাধারণত এই ভিসা ফ্রি থাকে। তাই নেপাল যেতে ভিসার জন্য কোন বেগ পেতে হয় না। ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডু যেতে সর্বোচ্চ সময় লাগে ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট।

বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে শুধুমাত্র যাওয়ার ভাড়া ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং রিটার্নসহ ৪৫ থেকে ৪৩ হাজার টাকা। হিমালয় এয়ারলাইনহ সাধারণত যাওয়ার ভাড়া ২৪ থেকে ২৬ হাজার টাকায় এবং রিটার্নহস একসাথে ৩৭ থেকে ৪৫ হাজার টাকা।

কাঠমন্ডু থেকে লুকলা

‍লুকলা শহরকে মাউন্ট এভারেস্টের প্রবেশদার বলা হয়। লুকলা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমাঞ্চকর আকাশ পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাঠমুন্ডু থেকে লোকগুলা যেতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট। এই বিমানবন্দরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯৩৮৩ ফুট বা (২৮৬০) মিটার উঁচুতে অবস্থিত। পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের তীব্র চাপ থাকার কারণে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে ট্রাফিক জ্যাম লেগে থাকে। এজন্য বিকল্প হিসেবে রামছাপ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে লুকলা যেতে ১২ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে।

See also  আগ্রার তাজমহল ভ্রমণ গাইড: ইতিহাস, যাতায়াত, খরচ ও ভ্রমণ টিপস

কাঠমুন্ডু এবং লুকলা বিমানবন্দর থেকে তারা এয়ার, সামিট এয়ার এবং সীতা এয়ার বিমানগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। কাঠমান্ডু থেকে লুকলার ভাড়া সাধারণত ১১ থেকে ১৩ হাজার টাকা এবং রামছাপ বিমানবন্দর থেকে ৯৫০০ থেকে ১১ হাজার টাকা।

লুকলা থেকে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প

লুকলা বিমানবন্দর থেকে মাউন্ট এভারেস্টের পাদদেশ বা বেস ক্যাম্প ১৩০ কিলোমিটার।বেস ক্যাম্পের উচ্চতা ৫৩৬৪ মিটার। বেস ক্যাম্পে দুই ভাবে যাওয়া যায় পায়ে হেঁটে এবং বিমানে।

ট্রেকিং রুট

লুকলা থেকে বেস ক্যাম্পে গিয়ে ফিরে আসতে সময় লাগে ১২ থেকে ১৪ দিন।  প্রথমে লুকলা থেকে যেতে হবে নামচে বাজার। সেখানে দুই তিন দিন লাগবে পায়ে হেঁটে। সেখানে রয়েছে শেরপাদের বিখ্যাত শহর নামচে বাজার। সেখানে একদিন বিশ্রাম করে শরীরকে মানিয়ে নিতে হবে। নামচে বাজার থেকে যেতে হবে ডিংবোচ ও লোবুচে গ্রামের দিকে। এবং এখান থেকেই সর্বশেষ যেতে হবে বেস ক্যাম্প ও কালা পাত্থার। এখান থেকে এভারেস্ট সবচাইতে সুন্দর ও পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে গাইড বুকিং করে নিতে হবে।

বিকল্প উপায়

যদি আপনার হাতে সময় কম থাকে অথবা পায়ে হাঁটার মতো শক্তি না থাকে। তাহলে বিকল্প উপায় রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনাকে এক দিনও হাটা লাগবে না এবং অল্প সময়ে হিমালয় খুব কাছ থেকে দেখে আসতে পারবে। কাঠমুন্ডু বিমানবন্দর থেকে সকালে বুদ্ধ এয়ার ও ইয়েতি এয়ারলাইন্স  ১ ঘন্টা মাউন্টেন ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এ সময় আপনি হিমালয়ে পর্বতের খুব কাছ দিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন এবং নিজের চোখে দেখে আসতে পারবেন।

কাঠমুন্ডু বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে করে এভারেস্টের বেস ক্যাম্প বা কালো পাথরে যাওয়া যায়। এখান থেকে এভারেস্ট দেখে আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে ফিরে যাওয়া যায়।

মাউন্ট এভারেস্টে থাকবেন কোথায়

মাউন্ট এভারেস্টে থাকর জন্য ট্রাকিং রুটের পাশে বিভিন্ন টি হাউজ লজ বা লাক্সারি লজ বা হোটেল রয়েছে। টি হাউজ লজে অল্প টাকার থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পুরো ট্রেকিং রুট জুড়েই (যেমন: লুকলা, নামচে বাজার, ত্যাঙবোচে, ডিংবোচে, গোরাক শেপ) স্থানীয় শেরপাদের লজ রয়েছে। তাই থাকার জন্য কোনো সমস্যা হয় না।যেখানে সাধারণ বেড, কম্বল এবং বালিশ দেওয়া হয়। ডাইনিং রুমে রুম হিটার বা চুল্লির ব্যবস্থা থাকে। রুমের ভাড়া উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়ে যায়।প্রতিরাত ৫০০ থেকে ১৫০০ রুপির মধ্যে থাকা যায়।

মাউন্ট এভারেস্ট খাবেন কোথায়

প্রতিটি টি হাউজে থাকার সাথে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।  এখানে নেপালি ডাল-ভাত, নুডলস, স্যুপ, মোমো এবং চা-কফির ব্যবস্থা থাকে। তাই খাওয়ার জন্য কোনো সমস্যা হয় না। তবে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাবার দাম ও বেড়ে যায়।

See also  আগ্রার তাজমহল ভ্রমণ গাইড: ইতিহাস, যাতায়াত, খরচ ও ভ্রমণ টিপস

 

মাউন্ট এভারেস্টে অভিযানের উপায়

মাউন্ট এভারেস্টে জয় করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে মাউন্ট এভারেস্টে যেতে হয়। শারীরিক পরিশ্রম এবং ছোট ছোট পর্বত আরোহণের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। ছোট পর্বত আরোহণের করার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এছাড়াও কিছু কারিগরি দক্ষতা যেমন, আইস ক্লাইম্বিং, স্নো ক্রাফটিং এবং উচ্চতায় টিকে থাকার কৌশল শিখতে হয়।

মাউন্ট এভারেস্টে অভিযানের খরচ

এভারেস্ট অভিযানে গেলে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন হয়। সর্বনিম্ন ৫০ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। নেপাল সরকারকে শুধু ক্লাইম্বিং পারমিট বাবদ প্রায় ১১,০০০ মার্কিন ডলার দিতে হয়। মাউন্ট এভারেস্ট অভিযান অত্যন্ত ব্যয়বহুল ব্যাপার।

 অভিযানের পারমিট

লজিস্টিকস, শেরপা গাইড, অক্সিজেন সিলিন্ডার, খাবার এবং ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি লাইসেন্সধারী আন্তর্জাতিক বা নেপালি মাউন্টেনিয়ারিং এজেন্সির সাথে চুক্তি করতে হয়। এভারেস্ট অভিযানের জন্য তারা আপনাকে সমস্ত দিক নির্দেশনা এবং সরঞ্জামাদি দিয়ে সাহায্য করবে।

মূল আরোহণ প্রক্রিয়া ও রুট

মাউন্ট এভারেস্টে দুই দিক থেকে ওঠা যায় নেপালের দিকে এবং তিব্বতের দিক থেকে তবে নেপাল থেকে ওঠা সব থেকে বেশি জনপ্রিয়। এভারেস্ট অভিযান সম্পূর্ণ করতে দুই মাস সময় লাগে। প্রথমে কাঠমুন্ডু যেতে হবে, তারপর কাঠমুন্ডু থেকে লুকলা যেতে হবে। লুকলা থেকে পায়ে হেঁটে বেস ক্যাম্পে যেতে হবে।

বেস ক্যাম্প থেকে খুম্বু হিমবাহ পেরিয়ে ক্যাম্প-১, ক্যাম্প-২, ক্যাম্প-৩ এবং সাউথ কোল বা ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছানো হয়। শরীরকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েকবার উপরে ওঠা এবং নিচে নামার প্রক্রিয়া চলে। সবশেষে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সাউথ কোল থেকে চূড়ান্ত সামিট পুশ করে চূড়ায় ওঠা হয়।

পরিশেষে

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এক আশ্চর্য সৃষ্টি। এর চোখ ধরানো সৌন্দর্য পর্যটকদের অচিরেই বিমোহিত করে। পর্যটক হিসেবে খুব সহজেই এভারেস্ট ঘুরে দেখা যায়। এর নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য মনকে পুলকিত করে। পৃথিবীর এক অন্যতম আশ্চর্য নিদর্শন হিসেবে বরফের চাদর গায়ে জড়িয়ে মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে তিব্বত ও নেপালের সীমান্তে।

 

FAQ

১. মাউন্ট এভারেস্ট কোথায় অবস্থিত?
এভারেস্ট নেপাল ও চীনের (তিব্বত) সীমান্তে অবস্থিত।

২. এভারেস্টের উচ্চতা কত?
এভারেস্টের সরকারি স্বীকৃত উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার।

৩. এভারেস্টের চূড়ায় প্রথম কারা উঠেছিলেন?
১৯৫৩ সালের ২৯ মে স্যার এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে প্রথম সফলভাবে চূড়ায় ওঠেন।

৪. এভারেস্ট জয় করতে কত দিন সময় লাগে?
সাধারণত আবহাওয়া ও অভিযানের প্রস্তুতিসহ প্রায় ৬–৯ সপ্তাহ সময় লাগে।

৫. এভারেস্টে আরোহণ করা কি বিপজ্জনক?
হ্যাঁ, অতিরিক্ত ঠান্ডা, অক্সিজেনের অভাব, তুষারঝড় ও তুষারধসের কারণে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

 

আরো পড়ুন

Sohag
Sohag

আমি একজন ভ্রমণপ্রেমী ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা। দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থান, ভ্রমণ গাইড, যাতায়াত, আবাসন ও প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য।

Articles: 6